English || Aribic

আসিফ মহিউদ্দিনকে মুক্তি দেয়ায় ক্ষোভ: সরকার এখনো রাসূল (সা.)কে কটূক্তিকারি নাস্তিক ব্লগারদের সাহায্য ও পৃষ্ঠপোষকতা করছে -আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী

হাটহাজারী, ১ জুলাই, ২০১৩ ঃ ইসলাম ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে কটূক্তিকারি ব্লগারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো আসিফ মহিউদ্দিনসহ অন্যান্য ধর্মবিদ্বেষী নাস্তিক ব্লগাদের জামিন দিয়ে মুক্ত করে দেয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হেফাজতে ইসলামের আমীর, বাংলাদেশ ক্বওমী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড (বেফাক) চেয়ারম্যান দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী (দা.বা)। গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি এ ব্যাপারে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে ৮৪ জন নাস্তিক ধর্মদ্রোহী ব্লগারের তালিকা সরকারকে দেয়া হয়েছিল, সেখানে নামমাত্র ৪ জন ব্লগারকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। যেসব ব্লগ বন্ধ করতে বলা হয়েছিল, তার একটিও বন্ধ করা হয়নি। বরং নাস্তিকদের সমালোচনাকারি কয়েকটি ব্লগ বন্ধ করে দেয় সরকার। এখন গ্রেফতারকৃত নাস্তিক ব্লগারদেরও ছেড়ে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, সরকার শাহবাগী নাস্তিকদের ধর্মবিদ্বেষের মুখোশ উন্মোচনকারি আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করে নির্যাতন করছে এবং আমারদেশ পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছে। শাহবাগী নাস্তিকদের দাবি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে অজুহাত দাঁড় করিয়ে ‘দিগন্ত টেলিভিশন’ ও ‘ইসলামিক টিভি’ বন্ধ করে দিয়েছে। এসব ঘটনায় আবারো প্রমাণিত হয়, সরকার নাস্তিক ও ধর্মবিদ্বেষী ব্লগারদের পক্ষাবলম্বন ও সাহায্য-সহযোগিতা থেকে সরে আসেনি বরং তাদেরকে নানাভাবে পৃষ্ঠপোষকতাই দিয়ে যাচ্ছে। আর যারা রাসূল (সা.) ও ইসলামের প্রতি অশালীন কটূক্তির প্রতিবাদ করছে এবং কটূক্তিকারিদের মুখোশ উন্মোচন করেছে তাদেরকে নানাভাবে হয়রানী করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এদেশের কোটি কোাটি মানুষ ৯০ ভাগ মুসলমানের ঈমান-আক্বীদার ওপর আক্রমণকারি ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় লংমাচ, সমাবেশ, অবরোধ কর্মসূচী পালন করেছে। এই দাবি করতে গিয়ে অসংখ্য আলেম উলামা ইতিমধ্যেই শহীদ হয়েছেন। রাজপথ আলেম ও তৌহিদী জনতার রক্তে রঞ্জিত হয়েছে। কতিপয় বামপন্থী-নাস্তিকদের উস্কানীতে সরকার মতিঝিল শাপলা চত্বরে রাতের আধারে নৃশংস গণহত্যা চালিয়েছে। এদেশের প্রতিটি ঈমানদার মানুষ হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবিতে যে ঐক্যবদ্ধ, দিনের আলোর মতোই তা পরিস্কার। হেফাজতের নেতৃত্বে তৌহিদী জনতার রক্তঝরা আন্দোলনের পর সর্বস্তরের দেশবাসী আশা করেছিল, সরকার নাস্তিকদের পক্ষ অবলম্বন থেকে সরে এসে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের দাবি ও অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে। নাস্তিক ব্লগারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াসহ ধর্মদ্রোহীদের শাস্তির আইন করবে এবং হেফাজতের অন্যান্য দাবি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবে।

কিন্তু আমরা বরাবরের মত এখনও দেখছি সরকার উল্টো কাজ করছে। সরকার আলেম সমাজসহ ধর্মপ্রাণমানুষের দাবির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েই চলেছে। শাপলা চত্বরে নৃশংস হত্যাকান্ডের কথা অস্বীকার করে বিভ্রান্তিমূলক কথা বলছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামীলীগ নেতারা সংসদের ওপর হামলা নিেেয় উপহাস করে বক্তব্য দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামীলীগের নেতারা বলার চেষ্টা করছেন, শাপলা চত্বরে নাকি গুলি চালানো হয়নি। শুধু তাই নয়, হেফাজতের লোকেরা গায়ে রং মেখে রাস্তায় লাশ হওয়ার ভান করে পড়ে থেকে ওই দিন নাটক করেছে- এমন কথা খোদ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। আলেম উলামা ও মাদ্রাসা ছাত্রদের ওপর হুমক ধমকী অব্যাহত আছে। আলেমদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো ঝুলিয়ে রেখে আলেমদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তার আগে হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা বাবুনগরীকে সুস্থাবস্থায় গ্রেফতার করে তাকে মারাত্মক অসুুুস্থ্যাবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করে তারপর জামিন দিয়েছে। ধর্মপ্রাণ মানুষের দাবিতে আসিফ মহিউদ্দিনসহ যে কয়কজন ব্লগারকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, অতি সম্প্রতি তাদেরকে জামিনে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তারও আগে শাহবাগে নাস্তিক ব্লগারদের নেতৃত্বে গড়ে উঠা তথাকথিত ‘গণজাগরণ মঞ্চ’-এ গিয়ে সরকারের মন্ত্রী এমপিরা এমনকি আওয়ামীলীগের সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতীয় সংসদ পর্যন্ত একাত্মতা প্রকাশ এবং খাদ্য ও তিন স্তরের নিরাপত্তা দিয়ে সরকার নাস্তিকদের পক্ষ নিয়েছিল এবং এখনো সেই নাস্তিক শাহবাগীদের প্রতি সরকারের সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত আছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, গত ৩ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের লংমার্চের আগে রাসূল (সা.)এর প্রতি কটূক্তিসহ ধর্ম অবমানার কারণে চিহ্নিত নাস্তিকব্লগার আসিফ মহিউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তার আগে ১লা এপ্রিল গ্রেফতার করা হয়েছিল মশিউর রহমান বিপ্লব, রাসেল পারভেজ ও সুব্রত অধিকারি নামে আরো তিনজনকে। সরকার ইতিমধ্যেই এদের সবাইকে জামিন দিয়ে মুক্ত করে দিয়েছে। গত ২৭ জুন আসিফ মহিউদ্দিনকে জামিন দেয়া হয়। অথচ একইদিন একই আদালতে প্রধানমন্ত্রীকে ফেসবুকে কটূক্তি করার অভিযোগে দেশের অন্যতম প্রধান বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়- বুয়েটের শিক্ষক হাফিজুর রহমান রানাকে ৭ বছর কারাদন্ড প্রদান করে। গত ১২ মে অন্য তিন ব্লগারকে জামিন দেয়া হয়। একই আদালতে একই দিন এই ঘটনায় আমরা হতবাক। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে এই সরকারের আসল চরিত্র আবারো জাতির কাছে ফুটে উঠছে বলে আমরা মনে করছি। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটূক্তিকারীদের ৭ বছরের কারাদ- হলেও মুসলমানদের প্রাণপ্রিয় রাসূল অবমাননাকারীদেরকে জামিনে মুক্তি দিয়ে পুরষ্কৃত করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে এদেশের ঈমানদার ধর্মপ্রাণ মানুষের দাবি ও অনুভূতির বিপরীতে নাস্তিক ও রাসূল (সা.)কে কটুক্তিকারিদের পক্ষে সরকারের পরিস্কার অবস্থান আমরা এখনো লক্ষ্য করছি।

বিবৃতিতে আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, আমরা আগেও বলেছি, ৯০ ভাগ মুসলমানের এই দেশে তাদের ঈমান আকীদার বিপক্ষে, ইসলামের বিপক্ষে এবং নাস্তিক ব্লগারসহ ধর্মদ্রোহীদের পক্ষে এভাবে অবস্থান নিয়ে কেউ ক্ষমতায় যেমন টিকে থাকতে পারবে না, তেমনি কেউ ক্ষমতায় যেতেও পারবে না। এদেশের ধর্মপ্রাণ তৌহিদী জনতা, আলেম উলামা এখন দল-মত ও ছোটখাট এখতেলাফ (মতভেদ) ভুলে গিয়ে ১৩ দফা ঈমানী দাবিতে ঐকবদ্ধ। দিনের পর দিন এই ঐক্য সিসাঢালা প্রাচীরের মতো রুপ নিবে ইনশাল্লাহ। মুসলমানদের ঈমানী দৌলত ও হিম্মতের কাছে কোন শক্তিই টিকে থাকতে পারে না। আমরা আবারো পরিস্কারভাবে বলতে চাই, হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবি এদেশের অধিকাংশ মানুষের দাবি। এ দাবি গণদাবি। জনগণের দাবিকে উপেক্ষা করার পরিণাম শুভ হবে না। যারা নাস্তিক ব্লগার, রাসূল (সা.)কে কটূক্তিকারি ধর্মদ্রোহীদের পক্ষ নিচ্ছেন, তাদেরকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দেশের চারটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন থেকে শিক্ষা নেয়ার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করছি।

তিনি নাস্তিক ধর্মদ্রোহী রাসূল (সা.)কে কটূক্তিকারি ব্লগারদের গ্রেফতার করে শাস্তি প্রদান, ধর্ম অবমাননার সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান করে আইন পাস, সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থার নীতি ফিরিয়ে আনাসহ ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান। আলেম উলামাদের ওপর হয়রানি বন্ধ, দায়ের করা সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেফতারকৃত আলেম উলামাদের মুক্তি দেয়ার আহবান জানান। একই সাথে নাস্তিক ব্লগারসহ ধর্ম অবমানকারিদের পক্ষ নেয়া ও সাহার্য সহযোগিতা থেকে বিরত থেকে এদেশের গণমানুষের অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার জন্য সরকারের প্রতি আবরো অনুরোধ জানান।