আল্লামা শাহ্ আহমদ শফীর গাড়ী লক্ষ্য করে পুলিশের গুলি, অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন, শতাধিক আহত ।

মুনির আহমদ: গতকাল (২৪ ফেব্রুয়ারী) বুধবার বর্তমান মহাজোট সরকার কর্তৃক সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে দেশকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা, ধর্মীয় শিক্ষাকে বাদ দিয়ে নতুন ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থা চালুকরণ, সম্পত্তিতে নারী-সমঅধিকার আইন চালু এবং ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধ করণসহ বিভিন্ন ইসলাম বিরোধী অপতৎপরতা প্রতিহতের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে আহূত প্রতিবাদ মহাসমাবেশে হাটহাজারী মাদ্রাসাসহ উত্তর চট্টগ্রামের প্রায় শতাধিক ক্বওমী মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষদের যোগদান করতে দেয়নি পুলিশ। সমাবেশের উদ্দেশ্যে হাটহাজারী মাদ্রাসাসহ উল্টর চট্টগ্রামের ক্বওমী মাদ্রাসাসমূহের ছাত্র-শিক্ষকদের প্রায় শতাধিক বাস, ট্রাক গাড়ি বহর চট্টগ্রাম মহানগরিতে প্রবেশের পথে বাধা দেয় পুলিশ এবং নগরির বালুচড়া এলাকায় বিনা উস্কানিতে সমাবেশে যোগদানকারীদের বাস গাড়ি লক্ষ্য করে পুলিশ গুলি টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে শতাধিক আহত কেও সমাবেশে যোগদানকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এখানে পুলিশ দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ্‌ আহ্‌মদ শফী গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করেছেন বলেও জানা গেছে। এসময় সমগ্র বালুচড়া, ফতেয়াবাদ, মদনহাট এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়ে যায় এবং সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা দিকবিদিক ছুটাছুটি করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ২৪ ফেব্রুয়ারী চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে আহূত প্রতিবাদ-মহাসমাবেশে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে উত্তর চট্টগ্রামের দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসা, নাজিরহাট বড় মাদ্রাসা, নানুপুর মাদ্রাসা, মেখল মাদ্রাসাসহ প্রায় অর্ধশতাধিক মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক প্রায় দেড় শতাধিক বাস নিয়ে যাত্রা করে। বাস বহর চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রবেশ পথ বালুচড়া এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকেই অপেক্ষমান পুলিশ কোনরূপ উস্কানি ছাড়াই বাস বহরে শত শত গুলি টিয়ার সেল নিক্ষেপ শুরু করে। আকস্মিক এই পুলিশি আক্রমণে হতভম্ব হয়ে সমাবেশে অংশগ্রহণকারী মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষকরা দিগ্বিদিক ছুটাছুটি করেন। সময় দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ ক্বওমী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড (বেফাক) চেয়ারম্যান পীরে কামেল হযরত আল্লামা শাহ্‌ আহ্‌মদ শফী গাড়ী লক্ষ্য করে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। সময় রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়ে চরম দূর্ভোগের শিকার হন। আহতদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম (২৩), শরীফ (১৯), আব্দুল মালেক (২১), রাশেদুল ইসলাম (২২), আমিনুল ইসলাম (২৪), মোর্শেদ (১৯) এর অবস্থা আশংকাজনক। আহতদের হাটহাজারী উপজেলা সাস্থকমপ্লেক্স, হাটহাজারী আধুনিক হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। পরে ছত্রভঙ্গ সমাবেশকারীরা বিক্ষোভ মিছিলসহকারে হাটহাজারী ফতেয়াবাদ এলাকায় তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সমাবেশ করে। কিন্তু এখানেও পুলিশি আক্রমণে সমাবেশ করতে পারেনি প্রতিবাদকারীরা। সময় বালুছড়া, বড় দিঘীরপাড়, ফতেয়াবাদ চট্টগ্রাম ইউনির্ভাসিটি এলাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় অর্ধ শত মাদ্রাসা ছাত্রকে গ্রেফতার করে এবং বিপুল সংখ্যক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা যায়।

একই দিন বিকেল ঘটিকায় পুলিশি হামলার প্রতিবাদে হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ডে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এবং সমাবেশ শেষে কয়েক হাজার মাদ্রাসা ছাত্র হাটহাজারী এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে।

সন্ধ্যা ৬টায় আকস্মিকভাবে পুলিশ হাটহাজারী মাদ্রাসার উত্তর গেটে মাদ্রাসা ছাত্রদেরকে উস্কানীমূলকভাবে তাড়া করলে দাওয়া-পাল্টা দাওয়া শুরু হয়ে যায়। এতে মাদ্রাসা ছাত্রদেরকে লক্ষ্য করে পুলিশ গুলি করলে জন গুলিবিদ্ধ হয়। তাদের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাৎক্ষনিকভাবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সমগ্র হাটহাজারী এলাকায় আতংক থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং দোকানপাট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। এবং উত্তর চট্টগ্রামের ২২টি সড়কের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে হাজার হাজার যাত্রী চরম দূর্ভোগের শিকার হন।

উদ্ভূত পরিস্থিতে সন্ধ্যা ৬টায় হাটহাজারী মাদ্রাসা মিলনায়তনে মাদ্রাসা মহাপরিচালক পীরে কামেল আল্লামা শাহ্‌ আহ্‌মদ শফী সভাপতিত্বে এক জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা শেষে এক বিবৃতিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবী করে বলেন, বিনা উস্কানীতে গাড়ী বহরে হামলাকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের অবিলম্বে বহিষ্কার শাস্তিদানের যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি এবং আহতদের সুচিকিৎসার দাবী জানান। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ দেশের প্রতিটি ক্বওমী মাদ্রাসা ছাত্র-শিক্ষকগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ সমাবেশ বিক্ষোভ মিছিলের আহ্বান জানান।